ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৫ই এপ্রিল, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ

 নিউজ রুমঃ Bijoy Bangla BD 24. COM

 প্রকাশিত: মার্চ ৫, ২০২১, ৩:৫৫

৩৭ বার পঠিত

ইতিহাসের স্বাক্ষী হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ীয়ে রয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ
এম মনিরুজ্জামানঃ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের স্মরণে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়ীয়ে রয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ। পাবনার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়ীয়া ডিগ্রী কলেজ মাঠের পূর্ব কর্ণারে, মহান মুক্তিযুদ্ধের গণহত্যার শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত এই স্মৃতিস্তম্ভ। ১৯৭১ সালে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসরদের সহযোগিতায় সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে বর্বরোচিত হামলা চালিয়ে শত শত নিরীহ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে। সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এসএম শামসুল আলম জানান, সাতবাড়ীয়া ছিল এ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধাদের অন্যতম ঘাঁটি। এছাড়া পাবনা-২ আসনের প্রয়ত এমপি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আহমেদ তফিজ উদ্দিন মাস্টারের জন্ম ভূমিও সাতবাড়ীয়া। সে কারণে হানাদার বাহিনী এই অঞ্চলের মুক্তিকামী মানুষের ওপর প্রচুর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। আর এরই এক পর্যায় ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনী এই ইউনিয়নের কুড়ীপাড়া, নিশ্চিন্তপুর, কাচুরী, তারাবাড়ীয়া, ফকিৎপুর, সাতবাড়ীয়া, নারুহাটি, কন্দর্পপুর, সিন্দুরপুর, হরিরামপুর, ভাটপাড়া, এবং গুপিনপুরসহ ১৫/২০টি গ্রামে অপারেশন চালিয়ে গণহত্যা করে। সশস্ত্র হামলা চালিয়ে আ’লীগ নেতা মহির উদ্দিন, ফকোর উদ্দিন, সমির সাহা, ওয়াজেদ আলী, গোপাল শেখ, অসিত সাহা, খিতিশ সাহা, বাসুদেব বিশ্বাস, চেতনা শেখ, আব্দুল কুদ্দুস এবং সেকেন্দার আলীসহ নাম নাজানা প্রায় ৬/৭‘শ নারী—পুরুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করে। এদের মধ্যে তারা প্রায় ২‘শ জনের লাশ পার্শ্ববর্তী পদ্মা নদীতে ভাসিয়ে দেয়। শুধু তাইনা হানাদার বাহিনী গণহত্যা করার পাশা পাশি গোটা ইউনিয়নে ব্যাপক লুটপাট, ধর্ষণ এবং বাড়ীঘরে অগ্নিসংযোগ চালায়। পাবনা-২ আসনের বর্তমান এমপি এবং সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও প্রয়াত এমপি আহমেদ তফিজ উদ্দিনের জেষ্ঠ্য পুত্র আহমেদ ফিরোজ কবির উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান থাকা কালীন সময়ে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়। এই স্মৃতিস্তম্ভের মূল মোট সাতটি স্তম্ভ রয়েছে, এতে ৭ জন বীরশ্রেষ্ঠ এবং মুক্তিযুদ্ধের সাতটি সেক্টর কে বোঝানো হয়েছে। স্মৃতিস্তম্ভের বিভিন্ন কালো বর্ডারে বিভিন্ন অংশে বিভক্ত হয়েছে সাতটি স্তম্ভ। ৭১ ফুটে কালো দাগে ৭১ মহান মুক্তিযুদ্ধ, ৫২ ভাষা আন্দোলন, ২৬ শে মার্চ মহান স্বাধীনতা দিবস, ২১ শে ফেব্রুয়ারী, ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস ও ৬ দফা কে বোঝানো হয়েছে। ১৯৭১ সালে ১২ মে যে নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ পরিচালনা করে পাকিস্থানে জান্তা বাহিনী এই অঞ্চলের শত শত নিরীহ মানুষকে হত্যা করেছিল তারই স্মৃতির স্মারক হিসেবে বর্তমান সরকার ২০১৩ সালে সাতবাড়ীয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে এই স্থাপনাটি নির্মাণ করেন। সাতবাড়ীয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল বাছেত বাচ্চু বলেন, বিশেষ বিশেষ দিনে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি, আলোচনা সভা, দোয়া মাহফিল এবং স্মৃতিচারণ ও ফুলের শুভেচ্ছা জানানো হয়। শহীদদের স্মরণে এই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের ব্যয় হয়েছে প্রায় সোয়া দুই কোটি টাকা। মুক্তিযুদ্ধ ও সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয় কর্তৃক নির্মিত এ রক্ষণা বেক্ষণের দায়ীত্ব উপজেলা প্রশাসনের অর্পণ করা হয়। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য বাংলাদেশে এ ধরণের স্থাপনা স্মৃতিস্তম্ভ মোট ৬ টি রয়েছে, তার মধ্যে পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলার সাতবাড়ীয়া ডিগ্রী কলেজ মাঠে একটি মুক্তিযুদ্ধের অন্যান্য স্থাপনা নির্মিত হয়েছে।

সর্বশেষ
Uncategorized বিভাগের সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত


Copyright ©  BijoyBanglaBD24.com                                 Developed by VIP TECHNOLOGY